আমার আমি!

Shopmoনতুন করে আবারো লেখার চিন্তা… এখন সময়টা গোধূলীবেলা। আমার প্রিয় মূহুর্ত। তাই এ সময়টাতেই শুরু করলাম লেখার কাজটা, এইটা আমার ডিজিটাল ডায়েরিতে লেখা প্রথম ব্লগ।

আমি গুছিয়ে কোন কাজই করতে পারিনা। তার মধ্যে লেখালেখির কাজটাও পড়ে। তাই ঠিক করেছি যা মনে আসবে তাৎক্ষনিক তা-ই লিখে নেবো। আমি লিখতে চাইছি আমার মনের শান্তির জন্যে। দুঃসহ সময়গুলো পার করার জন্যে। ইদানিং এতো বেশি যন্ত্রণা হয় মাথার ভেতরটায়! সহ্য করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। প্রায়সময়- বিশেষ করে খুব বেশি হয় রাতে, মাথাটায় যেনো এ্যাটম বোমার মতোন বিস্ফোরণ ঘটবে। পুরো শরীরটা ছটফট করে উঠে। নিজেকে সামলানো মুশকিল হয়ে পড়ে।

প্রচন্ড মাথা ধরেছে। আমি বুঝতে পারছি আমার বসে থাকার সময় শেষ হয়ে আসছে। বিছানায় পড়ে গেলে …….ভীষণ ভয়ংকর অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা সময় ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। তাকে থামানোর কোন পথ আমার জানা নেই। কোথাও এতটুকু আলো দেখতে পাচ্ছি না। এখন বোধহয় শুধুই প্রতিক্ষার পালা। কবে যমদূত আসবে সেই প্রতিক্ষা! একটু না অনেকটুকু ভয় করে। মাটির নিচের ঘরটা যে ভীষণ অন্ধকার !

জীবন থেকে ২৫টা বৎসর চলে গেলো। একসময় এ বয়সটার জন্যে অধৈর্য্য প্রতিক্ষার প্রহর গুনেছি। এ বয়সের মানুষগুলোকে যে ভীষণ হিংসে হতো। কবে যে বড় হবো! অনেক কিছু করতে পারবো! কিন্তু কিছুই হলো না। এখনো সেই ছোটই রয়ে গেলাম। অবুঝপনাটা এখনো কাটলো না। এতো বয়স হলো এখনো গুছিয়ে কথা বলাটাও শিখতে পারলাম না!

shopno2আমার ছোট বেলার দস্যিপনা। কতো কি যে করেছি তার ইয়ত্তা নেই। টিভিতে নাটক দেখে ঘুমন্ত নানাভাইয়ার পা কাঁমড়ে দেওয়া, দরোজার বাইরে রঙিন পেন্সিলে বড় বড় হরফে ”ছিল্লা কাইট্যা লবণ লাগাইয়া দিমু” লিখে ঘরে হইচই ফেলে দেওয়া (মনে পড়ছে, নানাভাই এ ঘটনায় বেশ ভয় পেয়েছিলেন। কাজটা আমি করেছিলাম ”ইত্যাদি” দেখে), ইনজেকশনের সিরিঞ্জ জামার ভেতরে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, এ বাড়ি ও বাড়ি টো টো করা আর রাতের বেলা নানুকে জড়িয়ে ধরে গল্প বলার জন্যে জ্বালাতন করা। এমনিতরো হাজারো যন্ত্রণা দিয়েছি সবাইকে। বড়আম্মাকে ছাড়া আমার একমূহুর্তও চলতো না। স্কুলে যাওয়ার আগে এবং বাসায় ফিরে বড়আম্মাকে না দেখলে আমার মাথা খারাপ হয়ে যেতো। মনে পড়ে একদিন সকাল বেলা বড়আম্মাকে ব্যাগ গোছাতে দেখে আমাকে স্কুলে পাঠাতে হিমশিম খেতে হয়েছিলো নানুকে। দুপুরে বাসায় ফিরে বড়আম্মাকে না দেখে কাঁদতে কাঁদতে পুরো ঘর মাথায় তুলেছিলাম সেদিন।

আচ্ছা! আমিও কি বদলে গেছি? নিজেকে এতো অসহ্য কেনো লাগে? সবকিছু ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলতে ইচ্ছে হয় কেনো? জীবনটা এতো কঠিন হয়ে গেছে কেনো???

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।