ওয়েব ডিজাইনের হাতেখড়ি

শুভেচ্ছা সবাইকে। আমাকে একজন প্রশ্ন করেছিলেন- “ওয়েব ডিজাইন শেখার ধারাবাহিকতা কি?” তারই আলোকে আজ আলোচনা করবো “ওয়েব ডিজাইন শেখার ধারাবাহিকতা” নিয়ে। প্রথমেই বলে রাখা ভালো- আমি নিজেও ওয়েব ডিজাইন কম বুঝি, যতটুকু পারি বা বুঝি সেটা নিয়েই আলোচনা করবো। আমাদের আজকের আলোচনা শুধু “ওয়েব ডিজাইনের” জন্য, “ওয়েব ডেভলপের” জন্য নয়। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য অন্য কোন দিন আলোচনা করবো।

Image_03

আপনার ওয়েব ডিজাইন শেখার ধারাবাহিকতা নিম্নরুপ হতে পারে।

→গ্রাফিক্স সম্পর্ক্যে ধারনা → মানুসিক ইচ্ছা → পরিকল্পনা → রিসোর্স → ধৈর্য্য → মার্কআপ → বাস্তবায়ন

♦ গ্রাফিক্স সম্পর্ক্যে ধারনা: টিউটোরিয়াল দেখে, বই পড়ে অনেক কিছুই শিখতে পারবেন আপনি, কিন্তু যেটার সর্ব প্রথম দরকার তা হলো আপনার “ক্রিয়েটিভিটি” ভালো একজন ওয়েব ডিজাইনার হতে অবশ্যই আপনার গ্রাফিক্স সম্পর্ক্যে ধারনা থাকতে হবে। ধারনা আছে কি না কি ভাবে বুঝবেন? তাহলে দেখুন তো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারেন কিনা!

  • গাড় রং এর বিছানার চাদরের সাথে কোন কালারে জানালার পর্দা মনাবে?web-page-design
  • নীল শার্টের সাথে কোন কালারের প্যান্ট পরতে হবে?
  • সাদার সাথে কোন রঙ সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে?
  • রাস্তার পাশে সাইনবোর্ড, পোষ্টার, বড় বড় বিলবোর্ডে, পত্রিকার পৃষ্ঠাজুড়ে বিজ্ঞাপন ইত্যাদি কখনো খুটিয়ে খুটিয়ে দেখেছেন কি?
  • ফটোশপে এর মাথা কেটে ঐ যায়গাই লাগানো, পাসপোর্ট-স্ট্যাম্প ছবি এডিট, ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন ছাড়া কখনো ব্লেন্ডিং, এ্যাম্বুশ, স্ট্রোক, স্যাডো, গ্রেডিয়েন্ট ইত্যাদি নিয়ে ঘাটাঘাটি করেছেন কি?

উপরে ৫টি প্রশ্ন করা হয়েছে, প্রতিটির জন্য ১০ মার্ক।

৩০ থেকে ৫০ এর মধ্যে যদি আপনার মার্ক থাকে তবে দেরি না করে এখনই ভালো কোন গাইডের তত্বাবধানে শুরু করে দিন আপনার গ্রাফিকাময় অগ্রযাত্রা!

যদি ২০ থেকে ৩০ এর মধ্যে হয় তবে মনে করুন কিছুটা পথ আরো বাকি! সেটা হতে পারে অনেক পরিশ্রমের, হাল ছেড়ে না দিয়ে ধৈর্য্য নিয়ে এগিয়ে যান। সফলতা আসবেই!

আর যদি আপনার মার্ক ০ থেকে ১০ হয়ে থাকে তবে- আপাতত গ্রাফিক্সের দৌড়ে সব’চে পেছনের মানুষ আপনি! শুধু ইচ্ছেকে পুজি করে সামনে এগুনো ঠিক হবে না বস্! সময় থকতে “ক্রিয়েটিভিটির” ভিটামিন খেয়ে নেমে পড়ুন এই মহাযগ্গে! আর সমস্ত শক্তি খাটিয়ে সামনের দিকে দৌড় লাগান; কে জানে এক সময় আপনিই হয়ে যেতে পারেন ইনভাটো (envato) গ্রুপের একজন গর্বিত সদস্য!

panoramic

♦ মানুসিক ইচ্ছা: মনে করুন গ্রাফিক্সের ধারনা আপনার প্রবল, কিন্তু এই বিষয়গুলো আপনার চলমান জীবনে কোনই প্রভাব ফেলে না। কিনবা ভবিষ্যতেও কোন প্রভাব ফেলবে বলে আপনি মনে করেন না! কিন্তু আপনার হাই রেজুলেশন/গ্রাফিক্সের গেম ছাড়া খেলতে ইচ্ছে করে না, HD প্রিন্টের সিনেমা/ছবি ছাড়া আপনার ভালো লাগে না, LCD/LED স্ক্রীন ছাড়া আপনার দেখতে সমস্যা হয়, পিসির কনফিগারেশনের সাথে ভালো মানের জিপিইউ (Graphics Processing Unit) আপনার চাই-ই-চায়! তাহলে আমি বলবো আপনি মাছ খেতেই ভালোবাসেন- ধরতে না। কোন কিছু শেখার পেছনে মানুসিক ইচ্ছাটা বেশ প্রাধান্য পায়, তবে এই ইচ্ছাটা কোন দিকে প্রবাহিত করবেন সেটা একান্তই আপনার উপর নির্ভর করে।

Think

♦ পরিকল্পনা: ধারনা, ইচ্ছার সাথে আপনার পরিকল্পনাটাও মিলিয়ে নিতে হবে। এই যেমন- কোথাই থেকে শুরু করবেন, প্রাথমিক ভাবে কতটুকু এগুবেন ইত্যাদি। পরিকল্পনা যদি বাস্তবমূখি হয় তবে কাজের অগ্রগতি অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। অবসরে খাতা কলম নিয়ে বসে যান, আগামি ১ মাসে কি কি করবেন তার একটি পরিকল্পনা-সূচি তৈরি করুন, এবং সে মাফিক আশা নয় দৃঢ় বিশ্বাষ নিয়ে এগিয়ে চলুন।

identify-270x180

♦ রিসোর্স: ওয়েব ডিজাইনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গ্রাফিক্স & ওয়েব রিলেটেড যা যেখানে পান সংগ্রহ করুন, যেমন ডকুমেন্ট, ই-বুক, ভিডিও টিউটোরিয়াল, বিভিন্ন এলিমেন্ট ইত্যাদি। এরপর? এরপর আবার কি! হার্ডডিক্সের বিভিন্ন পার্টশনে ভাজ করা কাপড়ের মত সাজিয়ে রেখে দিন!! (খানিকটা হ্যাংআউট হলাম আরকি 😛 ) তবে সত্যি কথা এটাই যে, অনেকেই রিসোর্স কালেক্ট করতে যেমন মরিয়া হয়ে উঠেন ঠিক তার উল্টোটা হয় এগুলোর ব্যাবহারে। প্রাথমিক ভাবে যেগুলো না নিলেই না সেগুলো সংগ্রহ করুন, এর জন্য বড় ভাই/আপুদের সহযোগিতা নিতে পারেন। এর পর বেসিক শিখুন ভালো করে, যেমন- ফটোশপের বেসিক, গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের পরিচিতি, কালার কম্বিনেশন, কালার ম্যাচিং, গ্রাফিক্স রিলেটেড টুলস এর ব্যাবহার ইত্যাদি।

teach-yourself-web-design

♦ ধৈর্য্য: আপনি হয়তো ভাবছেন এতক্ষনে ধৈর্য্যের কথা কেন বললাম! আসলে এই পয়েন্টে এসেই আপনার ধৈর্য্যের মূল পরিক্ষাটা হবে! যেটাতে এখনো আমি পাশ করতে পারিনি!! ধারনার ট্যালেন্টে ছড়াছড়ি সাথে হিমালয় সমান মানুসিক ইচ্ছা ও পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা পরিকল্পনা, সঙ্গে আছে প্রায় ১ টেরাবাইট (১ হাজার গিগাবাইট) রিসোর্স! কিন্তু এইগুলা সঠিক ভাবে সঠিক সময়ে কাজে না লাগানোর বদ অভ্যাশ আমার মত অনেকের ভেতরেই বিদ্যমান। মনে রাখবেন- টক আঙ্গুর মিষ্টি কি না সেটা খেলেই বোঝা যাবে! তার আগে নয়! মিছামিছি মনকে সান্তনা দেয়া থেকে বিরত থাকুন!

Seattle-WEb-Design

♦ মার্কআপ: এবার ধারনকৃত ধৈর্যের ঝুলি নিয়ে শুরু করুন PSD তৈরি, HTML এবং CSS শেখা, আর ঝাপিয়ে পড়ুন কোডিং এর দুনিয়ায়! প্রাথমিক ভাবে ভালো কোন ডিজাইনারের ডিজাইন দেখে নিজের মত করে সেটা তৈরি করতে চেষ্টা করুন, চেষ্টার ভেতর যেগুলো বাধা আসে সেগুলো সমাধানে তৎপর হোন। শুরুতেই PHP, Javascript, jQuery এইগুলার মধ্যে মাথা ঢোকানোর কোন যুক্তি নেই, প্রয়োজনে এগুলো ব্যাবহার করুন, মার্কআপে হাতেখড়ি হয়ে গেলে এ্যাডভান্স লেভেলে এইগুলো শেখার অনেক সময় পাবেন। আরো প্রয়োজনে এ বিষয়ে যাদের অভিঙ্গতা আছে তাদের পরামর্শ নিতে পারেন।

congrats_2

♦ বাস্তবায়ন: গ্রাফিক্সের বর্ণিল দুনিয়াই আপনাকে স্বাগতম! যদি আপনি উপরের পয়েন্ট গুলো ঠিকঠাক ভাবে পার করে আসেন তবে জেনে রাখুন আপনার ১৮” মনিটরে (ক্ষেত্র বিশেষে বড় বা ছোট হতে পারে) পৃথীবির সমস্ত রঙ নিয়ে দিয়ে ভরে দিতে পারবেন (তাই বলে বাজার থেকে রঙ কিনে নিয়ে এসে লাগাইলে আমার কুনু দোষ নাই 😛 ); রাঙ্গীয়ে তুলতে পারবেন ওয়েবের বিশাল দুনিয়াকে!

তো! আজকের প্রায় ৪ ঘন্টায় ভুমিষ্ট হওয়া আমার এই আলোচনা কেমন লাগলো আপনাদের? ঝটপট লিখে ফেলুন কমেন্টের ঘরে! আপনাদের সু-চিন্তিত মতামত, প্রশ্ন আমাকে আরো অনুপ্রাণিত করবে এমন তথ্য আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি, কথা হবে পরের কোন আলোচনায়; ততক্ষন পর্যন্ত ভালো থাকা হয় যেন

Comments

  1. ভাই অনেক ধন্যবাদ “আপনার কথাগুলো খুবই মুল্যবান যদিও একটু মজা করে বলেছেন “তবে আমি আপনার সাথে যোগাযোগ করতে চাই “যদি আপনি চান (আমার ইমো নাম্বার 01816509830)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।