আব্বা…

বন্ধুর মত বাবা, এইটা আমার কাছে বোকা বাক্সের মধ্যেই সিমাবদ্ধ ছিলো! আব্বাকে তেমন করে কাছে পেতাম না কখনো, আর পেলেও প্রয়োজন ছাড়া কথা হতো না। আমার বাবা কোন বিখ্যাত মানুষ ছিলেন না। তার নাম শুনে আর চারটা পাড়ার মানুষ চিনতেন না। আমি নিজেও ছোট বেলা থেকে অনেক স্বাশনে বড় হয়েছি, এখনো বাড়ির পাশের মানুষটি আমায় চেনেন না।

তার অসুস্থতার কারনে বিভিন্ন সময় আমাদের অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। মাঝে মধ্যে বাবাকে খুব করে বকা দিতাম; মনে মনে। অসুস্থতার কারনে মন-মেজাজ উনার অন্যরকম থাকতো, প্রায় সময় এটার জন্য খুব বিরক্ত লাগতো! তারপরেও রাত জেগে বাবাকে পাহারা দিতাম, খাইয়ে দিতাম মুখে তুলে, মাঝে মধ্যে কোলের মধ্যে শুইয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতাম। বাচ্চাদের মত করা আবদার গুলো পূরন করার চেষ্টা করতাম।

এমনিতে অসুখ-বিসুখ আমার কম, আর যদি একবার হয়ে যায় তাহলে সেটা সহজে ছাড়ে না। মনে পড়ে ছোট বেলায় যখন আমার খুব জ্বর হতো তখন উনি তার উন্মুক্ত বুকে আমায় জড়িয়ে ধরে বলতেন, কাঁদিস না- সব গরম আমার গায়ে চলে আসবে, সব ঠিক হয়ে যাবে! তখন কিভাবে জানি আমি সুস্থ হয়ে যেতাম! আব্বা, আমি আজও কাঁদি- নিরবে.. কই তুমি আর জড়িয়ে ধরে বলো না কেন- “কাঁদিস না, সব কষ্ট আমি নিয়ে নেব, সব ঠিক হয়ে যাবে”

অভাবের কারনে আব্বাকে একটা নরম তোশক কিনে দিতে পারিনি, শক্ত বিছানায় শুতে আব্বার খুব কষ্ট হতো! গত ফ্রেব্রুয়ারীতে আব্বাকে মাটির বিছানায় শুইয়ে দিয়ে এসেছি; কত বন্ধুকে জিজ্ঞেস করি, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে কত কথা বলি, কখনো আর আব্বাকে জিজ্ঞেস করা হয় না- “আব্বা, তুমি কেমন আছো? কোন কষ্ট হচ্ছে না তো?”

Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।